পশ্চিমবঙ্গের পরিচয়
প্রশ্নঃ অতীত বাংলায় শক্তির প্রধান উৎস কী ছিল ?
উত্তর – অতীত বাংলায় শক্তির প্রধান উৎস ছিল হস্তীবাহিনী।
প্রশ্নঃ গােপাল কত খ্রিস্টাব্দে গৌড়ের সিংহাসনে বসেন?
উত্তর- ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে গােপাল গৌড়ের সিংহাসনে বসেন।
প্রশ্ন : কোন প্রথার সঙ্গে বল্লাল সেনের নাম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ?
উত্তরঃ কৌলিন্য প্রথার সঙ্গে।
প্রশ্নঃ বাংলার শেষ স্বাধীন রাজবংশ হিসাবে কাদের নাম পাওয়া যায়
উত্তরঃ দেববংশের নাম পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ আদি মানবসভ্যতার নিদর্শন কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর – বঙ্গদেশে।
প্রশ্নঃ পাণ্ডুরাজার টিবি কীসের সাক্ষ্য বহন করছে?
উত্তরঃ বর্ধমান জেলার আউসগ্রাম থানার অন্তর্গত পাণ্ডুরাজার টিবি। এখানে নব্যপ্রস্তর যুগের শেষে ও তাম্র প্রস্তর যুগের শুরুতে নির্মিত নগর সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
প্রশ্নঃ গঙ্গারিডি জাতির উল্লেখ সর্বশেষ কোন গ্রন্থে পাওয়া যায় ?
উত্তরঃ টলেমির ট্রিটিজ অন জিওগ্রাফি গ্রন্থে।
প্রশ্নঃ কার মৃত্যুর পর বাংলায় মাৎস্যন্যায় দেখা দেয় ?
উত্তর – শশাঙ্কের মৃত্যুর পর।
প্রশ্নঃ বল্লাল সেন কত খ্রিস্টাব্দে রাজা হন ?
উত্তরঃ আনুমানিক ১১৫৮ খ্রিস্টাব্দে রাজা হন। 1)
প্রশ্নঃ লক্ষ্মণ সেন কত খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে বসেন ?
উত্তর – ১১৭৯ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মণ সেন সিংহাসনে বসেন।
প্রশ্নঃ তৎকালীন ভারতের বৃহত্তম তামার খনি কোথায় ছিল ?
উত্তরঃ ধলভূমিতে।
প্রশ্নঃ বাংলার আদিম আদিবাসীরা কী নামে পরিচিত অন্ডাল নামে পরিচিত।
উত্তরঃ অন্ডাল নামে পরিচিত।
প্রশ্নঃ পাল রাজবংশের শেষ রাজার নাম কী?
উত্তর – মদনপাল।
প্রশ্নঃ বাঙালিরাজাদের মধ্যে কে প্রথম সার্বভৌম রাজা ?
উত্তরঃ নাটক প্রথম সার্বভৌম রাজা ছিলেন।
প্রশ্নঃ এক সময় বাঙালি বিশ্বের দরবারে কী নামে পরিচিত ছিল ?
উত্তর → গঙ্গারিডি নামে।
প্রশ্নঃ বাংলার আদিম অধিবাসী কারা ?
উত্তর- মুন্ডা, লােধা, সাঁওতাল, শবর প্রভৃতি গােষ্ঠীর মানুষ।
প্রশ্নঃ ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর কীসের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে ওঠে সমগ্র বাংলা ?
উত্তর → বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে।
প্রশ্নঃ ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ কবে তৈরি হয় ?
উত্তর – ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে এই দুর্গ তৈরি হয়।
প্রশ্নঃ প্রথম বাণিজ্য কুঠি কত খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয় ?
উত্তর – ১৫৭১ খ্রিস্টাব্দে সপ্তগ্তামে ও চট্টগ্রামে স্থাপিত হয়।
প্রশ্নঃ কত খ্রিস্টাব্দে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি থেকে আলাদা হয়ে স্বতন্ত্র প্রেসিডেন্সিতে বাংলা পরিণত হয় ?
উত্তর – ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে আলাদা হয়ে স্বতন্ত্র প্রেসিডেন্সিতে বাংলা পরিণত হয়।
প্রশ্নঃ কত খ্রিস্টাব্দে পলাশির যুদ্ধ হয় ?
উত্তর – ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন পলাশির যুদ্ধ হয়।
প্রশ্নঃ বার্ষিক কত হাজার টাকায় জব চার্নক কলকাতা, সুতানটি ও গােবিন্দপুর গ্রামের ইজারা নেন?
উত্তর – বার্ষিক ১২ হাজার টাকায় জব চার্নক এই তিনটি গ্রামের ইজারা নেন।
প্রশ্নঃ কত খ্রিস্টাব্দে সিরাজ-উদ-দৌল্লা শওকৎ জঙ্গের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করেন?
উত্তর — ১৬ মে ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধ যাত্রা করেন।
প্রশ্নঃ বাংলার আদিম অধিবাসীরা ভাষার দিক থেকে কোন ভাষী ?
উত্তর – এরা ভাষার দিক থেকে অস্ট্রকভাষী।
প্রশ্নঃ বাংলার আদিম অধিবাসীরা কোথাকার লােক ছিল ?
উত্তর – বাংলার আদিম অধিবাসীরা ছিল প্রাক-দ্রাবিঢ় গােষ্ঠীর লােক।
প্রশ্নঃ বাংলার আদিম অধিবাসীদের দৈহিক গঠনের বৈশিষ্ট্য কী ?
উত্তর — এরা বেঁটে, মাথার খুলি লম্বা, নাক চওড়া, গায়ের রং কালাে, মাথার চুল ঢেউ খেলানাে
প্রশ্নঃ কোন যুগে ব্রাহ্মণ্য ধর্ম বিশেষ প্রতিষ্ঠা লাভ করে ?
উত্তর – গুপ্তযুগে ব্রাহ্মণ্য ধর্ম বিশেষ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
প্রশ্নঃ কোন ব্রাহ্মণদের বল্লাল সেন কুলীন বলে স্বীকৃতি দেন ?
উত্তর – গাঁই, লাহিড়ি, বাগচি, মৈত্র ও ভাদুড়ি এদের বল্লাল সেন কুলীন বলে স্বীকৃতি
প্রশ্নঃ বাংলার ব্রাহ্মণ্য ধর্মের অনুপ্রবেশ ঘটে কবে থেকে ?
উত্তর — গ্রিস্টপূর্ব যুগ থেকে।
প্রশ্নঃ বাংলায় কোনােদিন কোন কোন জাতি ছিল না?
উত্তর — বাংলায় কোনােদিন বৈশ্য ও ক্ষত্রিয় জাতি ছিল না।
প্রশ্নঃ বাংলা ভাষার মধ্যে কোন কোন ভাষার প্রভাব দেখা যায় ?
উত্তর – অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও আর্য ভাষাগােষ্ঠীর মানুষের প্রভাব দেখা যায়।
প্রশ্নঃ বাংলাভাষা তৈরিতে কোন ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
উত্তর – বাংলাভাষা তৈরিতে সংস্কৃত ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
প্রশ্নঃ বাংলা ভাষার উৎপত্তি কবে হয় ?
উত্তর- মাত্র হাজার বছর আগে।
প্রশ্ন 34 লাভল’, ‘কার্পাস’ শব্দগুলি মূলত কোন ভাষার ? উত্তর – এই শব্দগুলি মূলত অস্ট্রিক ভাষার।
প্রশ্নঃ বাংলা ভাষার ভিত কোন কোন ভাষার উপর নির্ভর করে রচিত হয়েছে?
উত্তর – অস্ট্রিক, দ্রাবিঢ় ও মাগধি প্রভৃতি ভাষার উপর নির্ভর করে বাংলা ভাষা রচিত হয়েছে।
প্রশ্নঃ প্রথম মহিপালের বাণগড় লিপিতে খােদিত কোন অক্ষরগুলি বাংলা অক্ষরের আকার নিতে থাকে?
উত্তর – অ, উ, ক, খ, গ, ধ, ন, ম, ল এবং ক্ষ অক্ষরগুলি বাংলা অক্ষরের আকার নিতে থাকে।
প্রশ্নঃ প্রাচীনকালে সংস্কৃত, প্রাকৃত ও দেশীয় ভাষা কেমন অক্ষরে লেখা হত?
উত্তর – সংস্কৃত, প্রাকৃত ও দেশীয় ভাষা সমস্তই একইরকম অক্ষরে লেখা হত।
প্রশ্নঃ বাঙালির সংস্কৃতি কী সংস্কৃতি ?
উত্তর → বাঙালি সংস্কৃতি মিশ্র সংস্কৃতি।
প্রশ্নঃ বাঙালি সংস্কৃতিতে কীসের প্রভাব আজও সুস্পষ্ট ?
উত্তর → বাঙালি সংস্কৃতিতে প্রাক-আর্য প্রভাব আজও সুস্পষ্ট।
প্রশ্নঃ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উলুধ্বনি দেওয়া, আলপনা চিত্রণ কোন সংস্কৃতি সূত্রে পাওয়া যায় ?
উত্তরঃ আর্যপূর্ব সংস্কৃতি সূত্রে পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ বাঙালির কী কী ব্যবহার অনার্য সংস্কৃতির অঙ্গ?
উত্তর → শাড়ি, ধুতি, কুলাে, চাল, দূর্বা, হলুদ, কলা ইত্যাদি সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা, রান্নার তেল ব্যবহার অনার্য সংস্কৃতির অঙ্গ।
প্রশ্নঃ সাক্ষরতার বিচারে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান কত?
উত্তর — অষ্টাদশ।
প্রশ্নঃ পশ্চিমবঙ্গের সাক্ষরতার হার কত শতাংশ?
উত্তর — পশ্চিমবঙ্গের সাক্ষরতার হার ৬৯.২২ শতাংশ।
প্ৰশ্নঃ পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে গঠিত হয় ?
উত্তর — ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে ভারতের রাজধানী কলকাতাকে কেন্দ্র করে অখণ্ড বাংলার পশ্চিমাংশ নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ।
প্রশ্নঃ ভারতের চারটি মেট্রো শহরের মধ্যে কোন শহরটি পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত ?
উত্তর — কলকাতা শহরটি পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।
প্রশ্নঃ আয়তনের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের স্থান কত?
উত্তর – আয়তনের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের স্থান দ্বাদশ।
প্রশ্নঃ জনসংখ্যার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের স্থান কত ?
উত্তর – জনসংখ্যার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের স্থান চতুর্থ।
প্রশ্নঃ কলকাতার সাক্ষরতার হার কত ?
উত্তর — ৮১.৩১ শতাংশ।
প্রশ্নঃ পশ্চিমবঙ্গের আয়তন কত ?
উত্তর – পশ্চিমবঙ্গের আয়তন ৮৮,৭৫১ বর্গ কিমি।
প্রশ্নঃ পশ্চিমবঙ্গে প্রতি হাজার পুরুষে মহিলার সংখ্যা কত ?
উত্তর → প্রতি হাজার পুরুষে মহিলার সংখ্যা ৯৩৪ জন।
প্রশ্নঃ পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীর নাম কী?
উত্তর – পশ্চিমবঙ্গের রাজধানীর নাম-কলকাতা।
প্রশ্নঃ কলকাতায় প্রতি বর্গ কিমিতে কতজন বাস করে ?
উত্তর – কলকাতায় প্রতি বর্গ কিমিতে ২৪,৭৬০ জন বাস করে।
প্রশ্নঃ পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিমিতে কত ?
উত্তর – ৯০৪ জন।
প্রশ্নঃ জেলাওয়ারি বিশ্লেষণে জনসংখ্যার বিচারে পশ্চিমবঙ্গের কোন জেলা সকলের আগে রয়েছে ?
উত্তর – উত্তর চকিশে পরগনা সকলের আগে রয়েছে।
প্রশ্নঃ গােটা দেশের মধ্যে চাল উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গের স্থান কত ?
উত্তর – পশ্চিমবঙ্গের স্থান প্রথম।
প্রশ্নঃ পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে?
উত্তর – কৃষি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
প্রশ্নঃ পশ্চিমবঙ্গে কত ধরনের এবং কী কী ধান চাষ হয় ?
উত্তর – পশ্চিমবঙ্গে তিন ধরনের ধান চাষ হয়-আউশ, আমন এবং বােরাে।
প্রশ্নঃ পশ্চিমবঙ্গে চাষের কটি এবং কী কী মরশুম আছে ?
উত্তর – এই রাজ্যে চাষের দুটি মরশুম আছে। রবি এবং খারিফ মরশুম।
প্রশ্নঃ বােরাে ধানচাষ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ার কারণ কী ?
উত্তর → বােরাে ধানের চাষ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ার কারণ হিসাবে অনেকে আবহাওয়ার কথা বলেছেন।
প্রশ্নঃ পশ্চিমবঙ্গের প্রধান কৃষিপণ্য কী ?
উত্তর → চাল, গম, অন্যান্য দানাশস্য, ডাল, তৈলবীজ, পাট ও আলু।
প্রশ্নঃ খারিফ মরশুম কখন শুরু হয়?
উত্তর – মে-জুন মাসে খারিফ মরশুম শুরু হয়।
প্রশ্নঃ পশ্চিমবঙ্গের মােট কৃষিজমির কত শতাংশে কৃষিকাজ হয় ?
উত্তর – মােট কৃষিজমির ৬৩.৫ শতাংশে কৃষিকাজ হয়।
প্রশ্নঃ রবি মরশুম কখন শুরু হয় ?
উত্তরঃ শীতের শুরুতে রবি মরশুম শুরু হয়।
প্রশ্নঃ কী কী ফসল উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছে ?
উত্তর – চা, আলু, পাট ও ডাল উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছে